December 15, 2018|  
।। বৃহত্তম বরিশাল বিভাগের সর্ব প্রথম আই.টি সংবাদ ভিত্তিক আপনাদের অনলাইন ম্যাগাজিন মিডিয়া ডিজিটাল বরিশাল ডট কম আপনাকে স্বাগতম।।

আওয়ামী লীগের সম্মেলন : সভানেত্রীর বক্তব্যে তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে যা কিছু

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলটির ২০তম সম্মেলন উপলক্ষ্যে একটি দীর্ঘ বক্তব্য প্রদান করেন।

সম্মেলনে আসা দেশি-বিদেশি ডেলিগেট ও কাউন্সিলরদের উদ্দেশ্যে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন খাত নিয়ে সরকার প্রধান হিসেবে নেওয়া পদক্ষেপ এবং বাস্তবায়নগুলো তুলে ধরেন।

তথ্যপ্রযুক্তি খাত নিয়েও প্রধানমন্ত্রী ও দলটির সভানেত্রী আলোকপাত করেন।  কী ছিলো তথ্যপ্রযুক্তি খাত নিয়ে দেওয়া তাঁর বক্তব্যে?

প্রধানমন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের শুরুতে ডেলিগেট ও কাউন্সিলরদের উদ্দেশ্যে বলেন, যে বিপুল সংখ্যক তরুণ প্রজন্ম আমাদেরকে ভোট দিয়েছিল, তাদের জন্য একটি তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণ ছিল আমাদের অঙ্গীকার। আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা।

এরপর প্রধানমন্ত্রী একে একে তাঁর সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, সারাদেশে ৫ হাজার ২৭৫টি ডিজিটাল সেন্টার চালু হয়েছে। এছাড়া তিন হাজার ডাকঘরে ডিজিটাল সেবা দেওয়া হচ্ছে। এসব সেন্টারের মাধ্যমে ২০০ ধরণের ডিজিটাল সেবা প্রতি মাসে ৪০ লাখের বেশি গ্রামীণ মানুষ পাচ্ছেন। গ্রামে গ্রামে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। উদ্যোক্তাদের মাসিক আয় গড়ে পাঁচ কোটি টাকা।

দেশে বর্তমানে মোবাইল সিমকার্ডের সংখ্যা ১৩ কোটির উপর। ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬ কোটি ২০ লাখের বেশি। ২০১৭ সালে মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

২৫ হাজার ওয়েবসাইট নিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম ওয়েব পোর্টাল তথ্য বাতায়ন খোলা হয়েছে। কৃষিখাতে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। সারাদেশে ২৪৫টি কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্রে ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের যোগাযোগের জন্য মোবাইল অ্যাপ ‘আলাপন’ চালু করা হয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ওয়াই-ফাই-এর মাধ্যমে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া শুরু হয়েছে।

ইন্টারনেট ব্যবহারে এখন ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। থ্রি জি মোবাইল সেবা চালু করা হয়েছে। ফোর-জি অচিরেই শুরু হবে।

গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিতে মোবাইল ব্যাংকিং পদ্ধতি এবং সাড়ে তিন হাজার পোস্ট অফিসে ইলেকট্রনিক মানিঅর্ডার চালু হয়েছে এবং এক কোটি ২৬ লাখ ইলেকট্রনিক মানি অর্ডার ইস্যু করা হয়েছে।

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত ও জমাদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উপজেলা ও জেলা হাসপাতালগুলোতে অনলাইন ও মোবাইলে স্বাস্থ্যসেবা চালু হয়েছে। এখন বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাসসহ বিভিন্ন সেবার বিল অনলাইন ও মোবাইল ফোনে দেওয়া যায়।

সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গতি বৃদ্ধির জন্য ই-টেন্ডার চালু করা হয়েছে। মাঠ প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ই-গর্ভনেন্স চালু করা হয়েছে। সকল জেলায় জেলা ই-সেবা কেন্দ্র, জেলা ও উপজেলায় ওয়েব পোর্টাল চালু করা হয়েছে।

পরীক্ষার ফল ও নিয়োগ পরীক্ষার ফল ওয়েবসাইট, এসএমএস ও ই-মেইলে দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন অনলাইনে সম্পাদন হচ্ছে।

তথ্য প্রযুক্তির বিকাশে আইসিটি আইন ও আইসিটি নীতি প্রণয়ন করেছি। গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈরে ‘বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটি’ এবং যশোরে হাই-টেক পার্ক স্থাপন করা হচ্ছে। বিভাগীয় শহরে সিলিকন সিটি স্থাপনের কার্যক্রম চলছে।

মাধ্যমিক পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ৫৮টি মন্ত্রণালয়, ২২৭টি অধিদপ্তর, ৬৪টি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও ৬৪টি নির্বাচিত উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় একই নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে।

৮০০টি প্রতিষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সিং সিস্টেম, ২৫৪টি এগ্রিকালচার ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন সেন্টার (এআইসিসি) ও ২৫টি টেলিমেডিসিন সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে ২৫ হাজার ট্যাব বিতরণ করা হয়েছে।

দেশের ৯৯ শতাংশ জনগণ ও ৯৫ শতাংশ এলাকা টেলিকম সার্ভিস ও নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে। প্রথমবারের মতো তিন পার্বত্য জেলা মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় এসেছে।

এছাড়াও সভানেত্রীর বক্তব্যে দেশের তথ্য প্রযুক্তি প্রসারের জন্য অবদান রাখায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কারের কথা তুলে ধরেন।

তথ্যঃ টেক শহর